মেরি ই. ব্রাংকো
মেরি ই. ব্রাংকো | |
|---|---|
| জন্ম | ১৯৬১ |
| মাতৃশিক্ষায়তন | প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় |
| পরিচিতির কারণ | ফক্সপি৩ |
| পুরস্কার | চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার (২০২৫) |
| বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন | |
| কর্মক্ষেত্র | অনাক্রম্যবিজ্ঞান, আণবিক জীববিজ্ঞান |
| প্রতিষ্ঠানসমূহ | ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজি, সেলটেক আরঅ্যান্ডডি |
| অভিসন্দর্ভের শিরোনাম | এক্সপ্রেশন অ্যান্ড ফাংশন অভ দ্য এইচ১৯ জিন ইন ট্রান্সজেনিক মাইস (Expression and function of the H19 gene in transgenic mice,"বংশাণু-রূপান্তরিত ইঁদুরের এইচ১৯ বংশাণুর অভিব্যক্তি ও ক্রিয়া") |
| ডক্টরেট উপদেষ্টা | শার্লি এম. টিলম্যান |
মেরি ই. ব্রাংকো (জন্ম ১৯৬১, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) একজন মার্কিন বিজ্ঞানী এবং নোবেল পুরস্কার বিজয়ী । [১] তিনি এই বিভাগে চতুর্দশ মহিলা বিজয়ী। [২]
পেশাদারি জীবন
[সম্পাদনা]২০০১ সালে ব্রাংকো ফ্রেড র্যামসডেলের সাথে মিলে কেন একটি নির্দিষ্ট ইঁদুরের প্রজাতি স্বতঃঅনাক্রম্য রোগের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, তার ব্যাখ্যা দেন।[৩]
"প্রান্তিক অনাক্রম্য সহনশীলতা সম্পর্কিত যুগান্তকারী আবিষ্কার যা শরীরের ক্ষতি করতে অনাক্রম্যতন্ত্রকে বাধা দেয়", তার জন্য ২০২৫ সালে ব্রাংকো, ফ্রেড র্যামসডেল ও শিমোন সাকাগুচি যৌথভাবে শারীরবিজ্ঞান বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
প্রান্তিক অনাক্রম্য সহনশীলতা ও ২০২৫ সালের নোবেল বিজয়
[সম্পাদনা]২০২৫ সালে মেরি ব্রাংকো, ফ্রেড র্যামসডেল ও শিমোন সাকাগুচি প্রান্তিক অনাক্রম্য সহনশীলতা নামক ব্যবস্থাটির উপরে তাদের যুগান্তকারী গবেষণাকর্মের জন্য যৌথভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এই ব্যবস্থাটি অনাক্রম্যতন্ত্রকে (দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা) দেহের নিজস্ব কোষগুলিকে আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখে। অনাক্রম্যতন্ত্র শরীরকে রোগজীবাণু থেকে প্রতিরক্ষা প্রদান করা ও একই সাথে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার মধ্যে কীভাবে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখে, তাঁদের এই গবেষণাতে তা বেরিয়ে এসেছে।
অনাক্রম্যতন্ত্র হল দেহের জন্য ক্ষতিকর আক্রমণকারী অণুজীব যেমন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। প্রতিটি অণুজীব দেখতে ভিন্ন, তবে এগুলির অনেকেই বিবর্তিত হয়ে মানব কোষকে অনুকরণ করতে শুরু করেছে, ফলে অনাক্রম্যতন্ত্রের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনাক্রম্যতন্ত্রের এই প্রতিরক্ষা কাজে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে টি কোষ নামের এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা। এগুলি বহিরাগত ক্ষতিকর আক্রমণকারী অণুজীবকে শনাক্ত করে সেগুলিকে আক্রমণ করা ও একই সাথে দেহের নিজস্ব কোষগুলিকে পরিহার করার ব্যাপারে প্রশিক্ষণ লাভ করে।
টি কোষগুলি প্রথমে অস্থিমজ্জাতে উৎপাদিত হয়। এরপর তারা থাইমাস নামের একটি বিশেষ অঙ্গে ভ্রমণ করে। সেখানে এগুলি একটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হয়, যার উদ্দেশ্যে দেহকে ভুলক্রমে আক্রমণ করার সম্ভাবনা রাখে, এমন সব টি কোষগুলিকে সরিয়ে ফেলা। এই নিরাপত্তা পরীক্ষাটিকে কেন্দ্রীয় সহনশীলতা নাম দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সহনশীলতা প্রক্রিয়াটি অনেক স্বতঃপ্রতিক্রিয়াশীল টি কোষকে বাদ দিলেও এরকম সবগুলিকে ধরতে পারে না। কিছু কিছু বিপজ্জনক টি কোষ পালিয়ে দেহের অন্যত্র চলে যায়। এগুলির কারণে দেহে স্বতঃঅনাক্রম্য রোগের আবির্ভাব ঘটে, যেখানে অনাক্রম্যতন্ত্রের কোষগুলি সুস্থ দেহকলাকে আক্রমণ করে।
১৯৯৫ সালে শিমোন সাকাগুচি এ বিষয় প্রথম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি সম্পাদন করেন। তিনি সেসময় অজানা এক ধরনের টি কোষ শনাক্ত করেন, যাদেরকে বর্তমানে নিয়ন্ত্রক টি কোষ নামে ডাকা হয়। এগুলি অনাক্রম্যতন্ত্রের নিরাপত্তা প্রহরীর মতো কাজ করে। তারা অনাক্রম্যতন্ত্রকে ভারসাম্যপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাখতে অতি-গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যাকে অনাক্রম্য সুস্থিতি বলা হয়। সেসময় বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে কেন্দ্রীয় সহনশীলতা একাই অনাক্রম্য নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট। সাকাগুচির আবিষ্কার এই বিদ্যমান বিশ্বাসের উপর আঘাত হানে।
২০০১ সালে মেরি ব্রাংকো ও ফ্রেড র্যামসডেল কেন ইঁদুরের একটি বিশেষ বংশ স্বতঃঅনাক্রম্য রোগের জন্য উচ্চমাত্রায় ঝুঁকিতে থাকে, তার কারণ বের করেন। তাঁরা ফক্সপি৩ নামের একটি বংশাণুতে একটি পরিব্যক্তি খুঁজে পান। ঐ বংশাণুটি নিয়ন্ত্রক টি কোষগুলির মূল “সুইচ” (সক্রিয়কারক ও নিষ্ক্রিয়কারক) হিসেবে কাজ করে। এটি ঐ কোষগুলির বিকাশ ও ক্রিয়া – উভয়ই নিয়ন্ত্রণ করে। যখন ফক্সপি৩ ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায়, তখন নিয়ন্ত্রক টি কোষগুলি সঠিকভাবে আর কাজ করতে পারে না, ফলে অনাক্রম্যতন্ত্র নিজ দেহকে আক্রমণ করে ক্ষতিসাধন করে। এর ফলে গুরুতর স্বতঃঅনাক্রম্য রোগের সৃষ্টি হতে পারে। ব্রাংকো ও র্যামসডেল আরও দেখান যে এই বংশাণুটির সমতুল্য যে বংশাণুটি মানুষের দেহে অবস্থিত, সেটিতে পরিব্যক্তির কারণে আইপেক্স সংলক্ষণ নামের একটি গুরুতর স্বতঃঅনাক্রম্য রোগ হয়ে থাকে।
এর দুই বছর পরে, ২০০৩ সালে, সাকাগুচি এই ফলাফলগুলির মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেন। তিনি দেখান যে ফক্সপি৩ বংশাণুটিই নিয়ন্ত্রক টি কোষগুলির বিকাশ ও ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। অনাক্রম্যতন্ত্র যাতে নিজ দেহকে আক্রমণ করতে না পারে, সে ব্যাপারে এই কোষগুলি আবশ্যকীয় ভূমিকা রাখে। একই কারণে বেশিরভাবে মানুষের দেহে গুরুতর স্বতঃঅনাক্রম্য রোগ প্রকাশ পায় না।
ব্রাংকো, র্যামসডেল ও সাকাগুচির আবিষ্কারগুলি প্রান্তিক সহনশীলতার কোষীয় ও আণবিক ভিত্তি উন্মোচন করে এই গবেষণাক্ষেত্রটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে তাদের কাজের অনেক প্রয়োগ আছে। যেমন স্বতঃঅনাক্রম্য রোগের জন্য অনাক্রম্য সহনশীলতা বৃদ্ধি করা, নিয়ন্ত্রক টি কোষের কর্মকাণ্ডে উপযোজন সাধন করে কর্কট রোগ বা ক্যান্সারের চিকিৎসা এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনে কাজে লাগানো, ইত্যাদি। তাদের গবেষণাগুলি দেখিয়েছে যে অনাক্রম্যতন্ত্রকে কেবল বহিরাগত শত্রুদের আক্রমণের সামর্থ্য দিয়ে নয়, বরং নিজেকে সংযত রাখার সামর্থ্য দিয়েও সংজ্ঞায়িত করতে হবে। এই নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানীরা আণবিক বংশাণুবিজ্ঞান, কোষীয় জীববিজ্ঞান ও রোগীভিত্তিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটিয়ে প্রান্তিক অনাক্রম্য সহনশীলতার কর্মপদ্ধতিগুলি উদ্ঘাটন করেছেন। তাদের গবেষণা অনাক্রম্য প্রতিক্রিয়ার অনুধাবন, পূর্বাভাস ও নিয়ন্ত্রণের একটি পরিকাঠামো প্রদান করেছে, যা কি না অনাক্রম্যবিজ্ঞান এবং মানব স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "The Nobel Prize in Physiology or Medicine 2025"। nobelprize.org। ৬ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ "Mary E. Brunkow – Facts"। nobelprize.org। ৬ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ Edwards, Christian; Hunt, Katie (৬ অক্টোবর ২০২৫)। "Nobel Prize in medicine goes to trio of scientists for discovering how the immune system is kept in check"। CNN (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৫।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- নোবেল বিজয়ী নারী
- মার্কিন নোবেল বিজয়ী
- চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী
- জীবিত ব্যক্তি
- ১৯৬১-এ জন্ম
- মার্কিন নারী বিজ্ঞানী
- প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- মার্কিন আণবিক জীববিজ্ঞানী
- ২০শ শতাব্দীর মার্কিন জীববিজ্ঞানী
- ২০শ শতাব্দীর মার্কিন নারী বিজ্ঞানী
- ২১শ শতাব্দীর মার্কিন জীববিজ্ঞানী
- ২১শ শতাব্দীর মার্কিন নারী বিজ্ঞানী